এই কৌশল মেনে চলুন। কোলেস্টেরল নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না।

কারো রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা যদি ২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হয় কিংবা কম ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরলের (ক্ষতিকর কোলেস্টেরল) মাত্রা ১০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হয়, তাহলে এগুলোর পরিমাণ কমানো উচিত।

রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়। এ জন্য যে কেউ নিচের ১০টি সহজ কৌশল অনুসরণ করে উপকৃত হতে পারেন।

১. প্রয়োজন হলে ওষুধ সেবন করতে হবে

জীবনাচরণ পদ্ধতির পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবন করলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। চিকিৎসকেরা কোলেস্টেরল কমানোর জন্য নানা রকম ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। যেমন—নিয়াসিন, ফাইব্রেটস, স্টেটিনস ইত্যাদি। বর্তমান সময় স্টেটিন-জাতীয় ওষুধ বেশি জনপ্রিয়। স্টেটিন রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল ২০ থেকে ৫০ শতাংশ কমাতে পারে।

২. হাঁটুন এবং ব্যায়াম করুন

নৈশভোজের পর কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাঁটুন। কেউ যদি প্রতিদিন ১০ হাজার সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করেন, তাহলে উপকৃত হবেন। আর কেউ যদি অফিসে চাকরি করেন, তাঁর উচিত অন্তত প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ মিনিট হাঁটা, চলাফেরা করা। আপনি যে ধরনের ব্যায়াম করুন না কেন, তা নিয়মিত করতে হবে। সপ্তাহে সাত দিন ব্যায়াম করতে পারলে তো খুবই ভালো। অন্যথায় কমপক্ষে পাঁচ দিন ব্যায়াম করতে হবে।

৩. চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করুন

মানুষের শরীরের মধ্যে প্রতিদিন কোলেস্টেরল তৈরি হয়ে থাকে। যেসব খাবারে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি, সেসব খাবারই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। এ জন্য সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন মাখন, চর্বিযুক্ত গরু ও খাসির মাংস ইত্যাদির পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, জলপাইয়ের তেল, মাছ ইত্যাদি বেশি খাওয়া উচিত।

৪. আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খান

ওজন কমাতে, রক্তে শর্করা ও চর্বি কমাতে এবং বৃহদন্ত্রের ক্যানসারসহ নানা রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসক বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খেতে পরামর্শ দেন। যেকোনো ধরনের সবজি এবং ফলমূল থেকে এই আঁশ পাওয়া যায়। এগুলো রক্তে কোলেস্টেরলও কমায়। বিশেষত দ্রবণীয় আঁশ পরিপাক নালি থেকে স্পঞ্জের মতো কোলেস্টেরল শুষে নেয়। সিম, বার্লি ইত্যাদি খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে।

৫. বেশি করে মাছ খান

প্রত্যেকেরই সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার মাছ খাওয়া উচিত। অধিকাংশ মাছেই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। যদি কেউ মাছ খেতে না পারেন, তিনি মাছের তেল থেকে তৈরি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ ক্যাপসুল চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে পারেন। বিভিন্ন উদ্ভিদজাত খাবারেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। যেমন—সয়াবিন তেল, কাঠবাদামের তেল ইত্যাদি।

৬. মদ্যপান পরিহার করুন

অ্যালকোহল শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের প্রায় প্রতিটি অংশেরই ক্ষতি করে থাকে। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। অতএব, অতিরিক্ত মদ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।

৭. গ্রিন টি সেবন করুন

গ্রিন টি আর স্বাভাবিক চা এর মধ্যে মুল পার্থক্য এর রাসায়ানিক পদার্থ গুলোর মাঝে। জাপানের বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দিনে অন্তত ৫ কাপ সবুজ চা যারা পান করেন তাদের রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল দ্রুত কমতে শুরু করে। সবুজ চা সেবন হূৎপিণ্ডের জন্য উপকারী।

৮. বাদাম খান

নাস্তার সময় কিছু আখরোট খেলে দুপুরের খাবার সময় পেট ভরাভরা লাগে, ফলে কম খাওয়া সম্ভব হয়। ক্যালরি কম খাওয়া হলে ওজন হ্রাসে সহায়তা হয়। বাদাম খেলে যেহেতু পেট ভরাভরা লাগে, তাই তো কম ক্যালরি খাওয়ার ব্যাপারে সহায়ক হবে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয়েছে, বাদাম খেলে রক্তের কোলেস্টেরল কমে। বিশেষত কাঠবাদাম এবং কাজুবাদাম উপকারী। বাদামে প্রচুর ক্যালরি রয়েছে। এ জন্য পরিমিত পরিমাণে বাদাম খাওয়া উচিত।

৯. ধূমপান পরিহার করুন

সফল হওয়ার জন্যে নিজেকেই উদ্যোগী হয়ে ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। যারা ধূমপান পরিহার করেছে, তারা অধিকাংশই অতীতে কমপক্ষে একবারের জন্যে হলেও অকৃ্তকার্য ছিল। ধূমপান করলে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরল বা বেশি ঘনত্বের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। অতএব, রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে।

১০. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। অতএব, রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের সবার উচিত, কোলেস্টেরল সম্পর্কে জানা। ওপরের ১০টি সহজ কৌশল মেনে চললে আমরা রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব। প্রয়োজনে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Post Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *