এই গরমে হতে পারে এসব অস্বস্তিকর চর্ম রোগ! কি করলে ভাল থাকবেন দেখুন।

গরম, রোদ আর ঘামের কারণে ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। সাধারণত ঘামাচি, রোদে পোড়া ত্বক, ব্রণ, ত্বকের শুষ্কতাসহ পেপিউলার আর্টিকারিয়া রোগ এসময় বেশি হয়।

তাই এ সময় ত্বকের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। তাই এসময় একটু সতর্ক হলে এড়ানো সম্ভব ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। জেনে নিন ত্বকের গ্রীষ্মকালীন কয়েকটি সমস্যা ও প্রতিকার:

১. ঘামাচি

গরমে শরীরে লাল লাল ঘামাচি বের হতে দেখা যায়। এগুলো চুলকায়, জ্বলে ও বিরক্তিকর অনুভূতির সৃষ্টি করে। একে ইংরেজিতে প্রিকলি হিট র‍্যাশও বলা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় মিলিয়ারিয়া। অতিরিক্ত পরিশ্রম, ঘাম ও আবদ্ধ জামাকাপড় এ সমস্যার জন্য দায়ী। ঘাড়, কুঁচকি, পিঠ, বগল ও বুকে ঘামাচি বেশি হয়। এটি প্রতিরোধের জন্য অতিরিক্ত গরম পরিবেশ এড়িয়ে চলুন, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরুন, নিয়মিত গোসল করুন। ঘামাচির সমস্যায় ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করা যায়, পুঁজ হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে এসির ঠাণ্ডা বাতাসে ২/৩ ঘণ্টা থাকলেও ঘামাচি চলে যায়।

২. একজিমা

একজিমা হলো ত্বকের এমন একটি অবস্থা, যেখানে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। একেক ধরনের একজিমার লক্ষণ একেক ধরনের হয়। তবে সাধারণভাবে লালচে, প্রদাহযুক্ত ত্বক; শুষ্ক, খসখসে ত্বক; ত্বকে চুলকানি; হাত ও পায়ের ত্বকের মধ্যে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি ইত্যাদি হলো একজিমার লক্ষণ। ডিটারজেন্ট, সাবান অথবা শ্যাম্পু থেকে একজিমার সংক্রমণ হতে পারে। অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠা-া ও স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়াও একজিমার কারণ।

৩. অ্যালার্জি

সাধারণত অ্যালার্জি হলে হঠাৎ শরীরে দানা ওঠা শুরু হয় বা শরীরে বিভিন্ন স্থানের ত্বক লাল চাকা চাকা হয়ে ফুলে যায় এবং সেই সঙ্গে প্রচণ্ড চুলকানি থাকতে পারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুদা খাতুন বলেন, কখনো কখনো শরীর ক্ষতিকর নয়, এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। বিভিন্ন প্রসাধনসামগ্রীর রাসায়নিক পদার্থ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে বিক্রিয়া করে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া করে। এতে ত্বকের প্রদাহ বা একজিমা দেখা দেয়। এ সময় প্রসাধনী ও সানব্লক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।

৪. ছত্রাক সংক্রমণ

গরমে ঘামে ভিজে ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণ বেড়ে যায়। ত্বক ভেজা ও আর্দ্র থাকার কারণে ছত্রাকসংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে মেয়েদের বিভিন্ন স্থানে ছত্রাক সংক্রমণ, চুলকানি বা সাদা স্রাবের আক্রমণ হয়। ছত্রাক সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত ঘাম হলে মুছে ফেলতে হবে। সব সময় জায়গাটা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, অন্তর্বাস বারবার পরিবর্তন করতে হবে। সুতি পাতলা অন্তর্বাস পরতে হবে। পোশাকও পাল্টানো উচিত। আক্রান্ত স্থানে পানি ও সাবান ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে। ছত্রাকনাশক ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৫. ব্রণ

গরমে মুখ অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে পড়ায় প্রদাহসহ ব্রণের প্রবণতাও বাড়ে। অতিরিক্ত তেল ধুয়ে ফেলতে বার বার ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখের ত্বক পরিষ্কার করুন। এতে মুখের তেলতেলে ভাব চলে যাবে। প্রসাধনীর ব্যবহার কমিয়ে ফেলুন। বাইরে থেকে এলে মুখমণ্ডলে ঠান্ডা পানির ঝাপটা বা বরফ ঘষে নিতে পারেন। অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৬. সানবার্ন

প্রখর রোদে ত্বক লাল হয়ে একটু ফুলে যেতে পারে ও ব্যথাও হতে পারে। ফরসা ত্বকে ও শিশুদেরই বেশি সানবার্ন হয়। তীব্র গরমে বাইরে থাকার দু-তিন ঘণ্টা পর থেকে শুরু হয়ে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে এ সমস্যা। পাশাপাশি জ্বর, ফোসকা বা বমির ভাবও হতে পারে। রোদে মুখ লাল হয়ে গেলে অতিসত্বর ঠান্ডা পানির ঝাপটা নিন। প্রচুর পানি পান করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৭. ছুলি

ত্বকের অক্ষতিকারক ছত্রাক প্রদাহ যা অনেকদিন পর্যন্ত এই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গ্রীষ্মকালে এই প্রদাহ বেশি দেখা যায়। শরীরের প্রায় সব জায়গায় সাদা বা বাদামি রঙের গোলাকৃত বা বিভিন্ন আকৃতির এই রোগ দেখা যায়। এতে কোনো রকম ব্যথা বা জ্বালাপোড়া এসব কিছুই থাকে না। বিভিন্ন রোগের সঙ্গে এ রোগের মিল রয়েছে যেমন শ্বেতি রোগ, লেপরসি, টিনিয়াকরপরিস ইত্যাদি।

৮. দাউদ

শরীরের যে কোনো স্থানে গোলাকার চাকা দেখা দিতে পারে। তবে সাধারণত তলপেট, পেট, কোমর, নিতম্ব, পিঠ, মাথা, কুঁচকি ইত্যাদি স্থানে বেশি দেখা যায়। আক্রমণের স্থান লক্ষ্য করে একে স্থান ভিত্তিক বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়। ত্বকের ফাঙ্গাস পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগ খুব সহজেই নিরূপণ করা সম্ভব।

৯. ক্যানডিডিয়াসিস

এটি একটি ছত্রাকজনিত চর্মরোগ। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন- শিশু, বৃদ্ধ কিংবা রোগাক্রান্ত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, দীর্ঘদিন ধরে যারা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেছেন কিংবা যাদের ত্বকের খাঁজ ঘামে সব সময় ভেজা থাকে তাদেরই এই রোগটি বেশি হয়। আবার যারা সব সময় পানি নাড়াচাড়া করেন তাদের আঙুলের ফাঁকে, হাতের ভাঁজে, শিশুদের জিহ্বায়, মহিলাদের যোনিপথে এবং গর্ভবতী মহিলারা এতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এতে ত্বকের আক্রান্ত স্থান লালচে ধরনের দেখা যায় এবং সঙ্গে প্রচণ্ড চুলকাতে থাকে।

১০. সোরিয়াসিস

সোরিয়াসিস ত্বকের একটি জটিল রোগ। তবে এটি কেবল ত্বক নয়, আক্রমণ করতে পারে শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও। যেমন সন্ধি, নখ ইত্যাদি। সাধারণত ত্বকের কোষান্তরে প্রতিনিয়ত মারা যায় এবং নতুন করে তৈরি হয়। সোরিয়াসিসে এই কোষ বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ত্বকের কয়েক মিলিমিটার থেকে কয়েক সেন্টিমিটার জায়গাজুড়ে এই সমস্যা দেখা দেয়।

Post Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *