ওজন কমাতে এই খাবারগুলো কাজ করে বিদ্যুৎ বেগে!

ওজন কমাতে গিয়ে আমরা খাওয়া দাওয়া ছেড়েই দেই বলতে গেলে অথবা স্বাভাবিক চাহিদার চেয়েও কম খেতে শুরু করি। অথচ শরীর সুস্থ রাখতে আপনার উচিৎ সব খাবারই পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করা। তবে বিভিন্ন জাঙ্ক ফুড যা শরীরের ওজন বাড়ায় তা বাদ দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এর বদলে এমন কিছু খাবার গ্রহণ করা উচিৎ যা আমাদের দেহের অতিরিক্ত চর্বি পুড়িয়ে আপনাকে একটি মেদহীন ঝরঝরে শরীর দেবে।

আমার সব সময় আপনাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে উৎসাহিত করি এবং এমন সব খাবারের দিক নির্দেশনা দেই যা আপনার বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে। আজও এরকম ১৩টি খাবারের তালিকা আপনাদের জন্য উপস্থাপন করছি। আসুন জেনে নেই বিস্তারিত।

১৩. প্রোটিন শেক

আমরা সাধারণত মিল্ক শেক, কফি শেক এগুলো শুনে বেশি অভ্যস্ত। তবে পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেছেন যারা দ্রুত শরীরের পেশী বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত জিমে যায় ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খায় ঠিক তেমনি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে খুব সহজেই চর্বি ঝড়িয়ে ফেলা যায়।

বড় সাইজের কলা ১ টি, বাদাম দুধ আধা কাপ, ডিম ২ টা। এ সবকিছু একসাথে মিশিয়ে শেক তৈরি করে নিন। এই প্রোটিন শেকটি প্রতিদিন নিয়মিত পান করুন যাতে করে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমতে পারে।

১২. দারুচিনি

শুধু খাবারে সুঘ্রাণ যোগ করতে নয়, এখন মেদ ঝরাতেও ব্যবহার হবে দারুচিনি। দারুচিনির চা কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই আমাদের বিপাকীয় প্রক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। প্রথমে ১ লিটার পানি গরম করে নিন, এরপর তাতে ১টি দারুচিনি ৫ মিনিট ধরে সেদ্ধ করে নিন। তবে আপনি চাইলে দারুচিনি গুড়াও (১ চামচ) ব্যবহার করতে পারবেন। সেদ্ধ পানি ঠাণ্ডা হওয়ার পর তাতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন ৩ বেলা খাবারের আগে এই চা পান করুন। নিয়মিত সেবনে ওজন কমার পাশাপাশি নিজেকে প্রাণবন্ত অনুভব করবেন।

১১. আখরোট

আখরোটে ওমেগা থ্রি ফ্যাট, প্রোটিন ও ফাইবারের যথাযথ ভারসাম্য থাকে। ফলে যদি আপনি ওজন কমানোর জন্য ডায়েটিং-এর পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে আখরোটকে অবশ্যই আপনার খাদ্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত করুন।

১০. গোটা শস্য

গবেষণায় দেখা গেছে, গোটা শস্য প্রক্রিয়াজাত শস্য থেকে অধিক স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিকর। এ ধরণের শস্য খাওয়ার বড় সুবিধা হলো আপনার সহজে ক্ষুধার্ত হতে দেবে না। গোটা শস্য নানা ধরনের ভিটামিন, খনিজ এবং কার্বোহাইড্রেটের আধার। এতে চর্বি বা ফ্যাটের পরিমাণ খুবই অল্প।

৯. আঙুর

আঙুরের রস শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে খুবই উপকারী। শরীরের ওজন কমাতে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও খুবই উপকারী। ঘুমানোর আগে ছোট এক গ্লাস আঙুরের রস পান করলে ঘুম ভালো হবে এবং অতিরিক্ত চর্বিও পুড়বে।

৮. সরিষা

সরিষাবীজে ফলেট, নিয়াসিন, রিবোফ্লাবিনের মতো বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স রয়েছে। এসব উপাদান ওজন কমাতে বেশ কাজে দেয়।

মসলা জাতীয় খাবার আমাদের দেহের মেটাবোলিজম বৃদ্ধি করে, বিশেষ করে সরিষা। সস বা মেয়োনিজের বদলে সরিষার চাটনি খেলে ৩০ মিনিটের মধ্যে আপনার দেহে এর প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে।

৭. নাশপাতি

ভিটামিন সি’র অন্যতম বড় একটি উৎস নাশপাতি। ওজন কমানোর জন্য অনেকের কাছে প্রথম পছন্দের ফলও এটি। ফাইবার সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘ সময়ের জন্য পেটে থাকে। হজম হয় ধীরে ধীরে। এ ছাড়াও শরীরের কোলেস্টেরল মাত্রা ঠিক রাখার জন্য পরিচিত ফল হচ্ছে নাশপাতি।

৬. কমলালেবু

কম ক্যালরির ফল কমলা। প্রতি ১০০ গ্রাম কমলায় ক্যালরির পরিমাণ ৪৭। শরীরের ক্ষতিকর ক্যালরিগুলো থেকে আপনাকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে এই ফল। সহজ ভাষায় বলা যায় এই ফল আপনার অনেক ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৫. লাল মরিচ

এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় বলা হয়, লাল মরিচ শরীরে মেদ জমতে দেয় না। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন লাল মরিচ। তবে খেয়াল রাখবেন, কোনো কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া ভালো নয়, লাল মরিচের যত ভালো গুণ থাকুক না কেন, সেটা খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন।

৪. পালং শাক

সবুজ পাতার এ শাক দ্রুত পেটের চর্বি কমাতে পারে। পালংয়ে ভিটামিন ও মিনারেল আছে, এতে ক্যালরি থাকে কম। তাই ওজন কমাতে খাবারে বেশি করে পালং রাখতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের ওজন বেশি তাঁরা নিয়মিত পালং খেলে বাড়তি ওজন কমে যায়।

৩. মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু adiponectin হরমোনের একটি যৌগ ধারণ করে যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে বাড়তি ওজন কমায়। তাছাড়া মিষ্টি আলু ফাইবারের অন্যতম উৎস। যা আপনাকে সতেজ থাকতে সাহায্য করবে। একটি মাঝারি আকার মিষ্টি আলুতে প্রায় ৪ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

২. ডিম

আমাদের সকলের বাড়িতেই সকালের নাস্তায় ডিম থাকেই থাকে। ডিম একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, যা দেহের বিপাকীয় প্রক্রিয়া বাড়ায় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ায়। প্রতিদিন সকালে ১-২টি সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ খেলে ওজন কমবে চোখে পড়ার মতো।

১. মুরগির মাংস

অনেকেই ভেবে থাকেন যে ওজন কমাতে গেলে মুরগি খাওয়া যাবে না। কিন্তু ধারনাটা আসলে ভুল। ওজন ঠিক রাখতে বা কমাতে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হয়। কিন্তু এই স্বাস্থ্যকর খাবারকে স্বাদহীন মনে করার কোনো কারণ নেই যদি যত্ন সহকারে ও সঠিক উপায়ে রান্না করা হয়। মুরগির মাংস যদি স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা হয় তাহলে তা ওজন কমানোর খাদ্য ব্যবস্থায় রাখা সম্ভব এবং সেটা আপনার খাবারেও পরিতৃপ্তি আনতে পারে।

Post Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *