দিনের পর দিন ধূমপান করে ফুসফুসের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছেন? এই খাবারগুলো আপনার ফুসফুসকে আগের মত পরিস্কার করে দিতে পারে!

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে ফুসফুস অন্যতম। সাধারণত আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমেই চালিত হয় ফুসফুস। তাই এটি চারপাশের বায়ু থেকে নানা ক্ষতিকর উপাদান গ্রহণ করবে এটাই স্বাভাবিক। এর ফলে শ্বাস প্রশ্বাসের নানা সমস্যা বিশেষ করে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, সাইটিক ফিব্রোসিস প্রভৃতি হতে পারে।

এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত ব্যায়াম, বায়ুদূষণ এড়ানো এবং ধূমপান না করা প্রভৃতি অনেক জরুরি। তবে এগুলোই যথেষ্ট নয়। সুস্থ থাকতে একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের ডায়েটে এমন কিছু খাবার রাখতেই পারেন যা আপনার ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করবে। আসুন জেনে নেই ফুসফুস সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের ডায়েটে কি কি খাবার রাখা উচিৎ যা প্রাকৃতিকভাবে ফুসফুস পরিষ্কার রাখবে।

১. আঙ্গুর

ফলের রানি বলা হয় আঙুরকে। লাল, কালো কিংবা সবুজ, যেমনই আঙুর হোক না কেন, উপকারিতা হিসেবে সব আঙুরই সমান। আঙ্গুরে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল এবং ভিটামিন রয়েছে, যা ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। আপনি যদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে এই খাবারটি প্রতিদিনের ডায়েটে রাখা উচিত। এটি ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২. বেদানা

ফলের রাজা আম হলেও চিকিৎসকরা কিন্তু বলেন ফলের রাজা বেদানা। খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সুস্বাদু ফল। ফুসফুসের নানা ক্ষতি এড়াতে এই খাবারটির জুড়ি মেলা ভার। কাজেই ফুসফুস ভালো রাখতে নিয়মিত এই খাবারটি খান।

৩. আদা

রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর উপকরণ হিসেবে আদার জুড়ি নেই। তবে আদার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে প্রায় সকলেই বেশ ভালোভাবেই অবগত আছেন। অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য থাকায় আদাও ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এজন্য নিয়মিত আদা-চা খেতে পারেন। চাইলে এর সঙ্গে লেবুও যোগ করতে পারেন। এগুলো শ্বাসনালীর বিষাক্ত পদার্থগুলো বের করে দিতে ভূমিকা রাখে।

৪. ডার্কবেরি

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক গুলো ফলের সমন্বয়ে যে ফল গঠিত সেই গুলোই বেরি জাতীয় ফল। যেমন:-ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, তুঁত ইত্যাদি। এই জাতীয় ফলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কেবলমাত্র ফুসফুস সুস্থই রাখবে না, ফলটি ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকিসহ শ্বাসনালীকে নানা ইনফেকশন এবং রোগের হাত থেকেও রক্ষা করে।

৫. হলুদ

হলুদকে অনেকসময় ‘মিরাকল হার্ব’ বা অলৌকিক ভেষজ বলা হয়ে থাকে। হলুদ আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটা মশলা, রোজকার রান্নায় হলুদ না দিলে রান্নাটাই যেন কেমন অসম্পূর্ণ মনে হয়। রসুন এবং আদার মতো হলুদেও অ্যান্টি-আনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট রয়েছে, যা ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

৬. আপেল

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, এন এ্যাপেল আ ডে কিপ দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে। অর্থ, নিয়মিত আপেল খেলে চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না। আপেলে ফ্লাভোনয়েড নামে এমন এক ধরনের উপাদান রয়েছে, যেটি শ্বাসনালীর সিস্টেমকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে এই খাবারটি ফুসফুসের নানা সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করে।

৭. রসুন

মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার ভয়ে অনেকেই রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে বিভিন্ন সময় গবেষণায় এই খাদ্য উপাদানটির নানা গুণের কথা বলা হয়েছে। রসুনে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি উচ্চ মাত্রার অ্যালিসিন রয়েছে। এগুলো প্রদাহের নানা সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া অ্যাজমা সমস্যা সমাধানেও রসুন অনেক বেশি কার্যকরী। সেইসঙ্গে এটি ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়।

৮. বাদাম এবং মটরশুঁটি

প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় অ্যাজমা রোগীদের এসব খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি৩, ফলিক অ্যাসিড ও প্রোটিন। এগুলো ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বাসযন্ত্রের দক্ষতা উন্নত করতেও সাহায্য করে।

৯. পেস্তা বাদাম

বিভিন্ন রকমের ড্রাই ফ্রুটের মধ্যে পেস্তা বাদামের পুষ্টিমান অনেক বেশি। পরিমিত পরিমাণে খেলে ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পেস্তা বাদামের তুলনা নেই। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই খাবারটি ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখে পেস্তা বাদাম।

১০. গোলমরিচ

মশলা হিসেবে গোল মরিচ বেশ পরিচিত নাম। খাবারের স্বাদ বাড়াতে এই মশলাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এর রয়েছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যগুণ। গোলমরিচে রয়েছে পিপেরিন নামক একটি বিশেষ উপাদান। এর পাশাপাশি এই মশলাটি আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, ভিটামিন এ ও সি এবং অন্যান্য উপাদান। শ্বাসনালীর যে কোন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে গোলমরিচ। কাজেই ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত এই খাবারটি খান।

১১. মরিচ

দুনিয়াতে সম্ভবত মরিচই এক মাত্র ফল যা কামড়ালে পাল্টা কামড় দেয়। এই পাল্টা কামড়ের প্রতিক্রিয়া মরিচের জাতভেদে নানা ধরনের হতে পারে। কোনটা কামড় দেয়ার সাথে সাথে মুখের ভিতর জ্বালা শুরু হয়, কোনটা গলাধঃকরণ না করা পর্যন্ত টের পাওয়া যায়না, কোনটা জিহ্বার আগায় জ্বালা ধরিয়ে দেয়, কোনটা আবার সমস্ত মুখগহবরে আগুন জ্বালায়। ফুসফুস, নাক এবং গলার শ্লেষ্মা তরল করার ক্ষেত্রে মরিচ অনেক বেশি কার্যকরী। একইসঙ্গে ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতেও সাহায্য করে এটি।

১২. পেঁয়াজ

শত শত বছর পূর্বে মিশরীয় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ফাংগাস জনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করতেন পেঁয়াজ। পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড বিশেষ করে ভিটামিন বি৬ এবং সি রয়েছে। এই ভিটামিনগুলো শরীরের জন্য অনেক উপকারী। শুধু তাই নয়, ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এটি।

উপরোক্ত খাবারগুলো ছাড়াও এমন কিছু খাবার যেমন ব্রোকলি, ফুলকপি, গাজর, টমেটো, কুমড়া ইত্যাদি রয়েছে, যা ফুসফুসকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফুসফুস পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাও সমান জরুরি। কাজেই ফুসফুস সুরক্ষিত রাখতে একটি সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাহলে ফুসফুসের নানা জটিলতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

Post Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *