বয়সের সাথে সাথে আপনার শরীরে হচ্ছে এই পরিবর্তনগুলো যা আপনি চাইলেও এড়িয়ে যেতে পারবেন না।

বয়স বাড়ার ভয় সবার মধ্যেই কম বেশি কাজ করে। আমাদের দেহ সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হতে থাকে এবং এর ফলে এমন সব বিষয় চোখে পড়ে যা আগে থেকেই বোঝা যায় না। চিকিৎসকরা মনে করেন, কোন পরিবর্তন ভালো এবং কোন পরিবর্তন খারাপ তা আমাদের জেনে রাখা উচিৎ। এতে পরিবর্তনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে আমরা নিরাপদ ও সুস্থ থাকতে পারবো।

আমরাও তাদের সাথে এক মত এবং আপনাকে এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে জানাতে চাই, যেন আপনিও বয়স বাড়ার সাথে সাতে এই পরিবর্তনগুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেন।

১০. দাঁতের অনুভূতি কমে যায়

যত বয়স বাড়ে, দাঁতে তীব্র ঠাণ্ডা বা গরমের অনুভূতি হ্রাস পায়। শুনতে ভালো লাগলেও, এতে করে তৈরি হয় নতুন সমস্যা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে দাঁতের স্নায়ুগুলো শুকিয়ে যেতে থাকে, যা দাঁতকে অনুভূতিহীন করে তোলে। ফলে দাঁতের ক্ষয় বা অন্যান্য সমস্যাও টের পাওয়া যায় না।

৯. নাক বড় হয়ে যায়

সাধারণত ১৮ বছরের পর আর শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে না আমাদের। কিন্তু কিছু অঙ্গ রয়েছে যা এই নির্ধারিত সময়ের পরেও বৃদ্ধি পায়, যেমন নাক, এটি আজীবন বড় হতে থাকে। এর কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে নাকের সফট টিস্যু, মাংসপেশি এবং তরুণাস্থিও বড় হতে থাকে। শুধু মাত্র নাকের হাড় বড় হয় না। এই বড় হওয়ার প্রক্রিয়া ৫০-৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ঘটে।

৮. কোমর ছোট হয়ে আসে

বয়স বাড়লে শরীরের কোষগুলোর ফ্লুয়িড কমতে থাকে এবং লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দেয়। নারীদের পাতলা কোমর এবং চওড়া হিপ বয়স বাড়লে উল্টে যায়। তখন কোমর হয়ে যায় বড় আর হিপ হয়ে যায় ছোট। পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গিয়ে শরীরে বিশেষ করে কোমরে চর্বি দেখা দেয়।

৭. চোখের পাপড়ি ছোট হয়ে যায়

সাধারণত চোখের পাপড়ির অযত্ন, থাইরয়েডের সমস্যা এবং অ্যালার্জির কারণে চোখের পাপড়ির ঘনত্ব কমে যায়। এই ঘনত্ব কমে যাওয়ার সাথে বয়সেরও একটি সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ৪৪% পুরুষ ও নারীর মধ্যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের পাপড়ি ছোট হওয়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়।

৬. যৌন আকাঙ্ক্ষা বাড়ে

মেনোপজ হওয়ার সাথে সাথে শরীরের হরমোন কমতে শুরু করে এবং অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে (প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস এবং যৌনাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি) এটি প্রকৃতির একটি কৌশল। সাইকোলজিস্টরা মনে করেন ৪০ বছর বয়সে নারীরা জীবনের সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে একটি নিশ্চিন্ত যৌন জীবনে প্রবেশ করে।

৫. পা বড় হয়

অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন বয়স বাড়লে পা বেশি ছড়িয়ে পড়ে এবং চওড়া দেখায়। এর কারণ পায়ের লিগামেন্ট এবং টেন্ডনগুলো বয়সের সাথে দুর্বল হতে থাকে। এজন্যই তারা আগের চেয়ে আরেকটু বড় জুতো কেনেন।

৪. দাগ চলে যায়

ফর্সা মানুষের ত্বকে ছোপ ছোপ দাগ হতে দেখা যায়। এই দাগ শিশু বয়স থেকে যৌবনের মাঝামাঝি সময় দেখা গেলেও পড়ন্ত বয়সে এগুলো আর থাকে না।

৩. ফিঙ্গার প্রিন্ট পরিবর্তন হয়

বিশ্বজুড়ে অপরাধবিদদের মধ্যে এই ধারণা প্রচলিত যে কখনোই মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট পরিবর্তন হয় না। কিন্তু গত ২০১৫ সালে একটি বড় গবেষণা চালান বিজ্ঞানীরা। তারা ১৫,০০০ মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা করে দেখেছেন, শুধু ইনজুরির কারণেই নয়, বয়স বাড়লেও আঙুলের প্যাপিলারি রেখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট পরিবর্তন হয়ে যায়।

২. রঙের উপলব্ধি পরিবর্তন হয়

অনেক মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে রঙের উপলব্ধি পরিবর্তন হয়। আমেরিকান গবেষকরা ৫৮-১০২ বছর বয়সী ৯০০ মানুষের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, বয়স বাড়লে চোখের উপর হলুদ ফিল্টার তৈরি হয়। এর ফলে নীল ও বেগুনী এবং হলুদ ও সবুজের মতো রঙের পার্থক্য বুঝতে দেয় না।

১. খাবারের স্বাদ পাল্টে যায়

জীবন বেলার শেষ প্রান্তে এসে আমাদের জিহ্বায় নতুন টেস্ট বাড তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। গবেষকদের মতে, এর ফলে একই খাবারের স্বাদ আগের মতো পাওয়া যায় না। গবেষণার হিসাব মতে, নারীরা ৫০ বছর বয়সে এবং পুরুষেরা ৬০ বছর বয়স থেকে খাবারের স্বাদ হারাতে শুরু করেন।

বোনাস: সুখের অনুভূতি

উপরের সবকিছু ছাপিয়ে এক কথা বলা যায়, বয়স বাড়ালে মানুষ সুখী হয়। স্যান ডিয়াগোর বিজ্ঞানীরা ৫০-৯৯ বছর বয়সী ১০০০ হাজার নারী ও পুরুষের মধ্যে গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, তরুণদের তুলনায় বয়স্করা অনেক বেশি সুখী।

Post Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *